,BISSHOSONGBAD, Bangla, বিশ্ব সংবাদ, 24 news
হরমুজ প্রণালির জাস্ক দ্বীপের কাছে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সোমবার নৌ-নিরাপত্তা ভঙ্গ করে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে অগ্রসর হতে চাইলে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এ হামলা করে। ইরানের ফার্স নিউজ স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে কোনো ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করেছে মার্কিন বাহিনী। খবর আল-জাজিরা, বিবিসির।
দক্ষিণাঞ্চলের স্থানীয় সংবাদসূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে যুদ্ধজাহাজটি আর এগোতে পারেনি এবং বাধ্য হয়ে পিছু হটে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এই খবর প্রকাশ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। এর আগে ইরান একাধিকবার জানিয়েছিল, তাদের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এই সতর্কতা অমান্য করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন কোনো যুদ্ধ জাহাজে হামলা হয়নি বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে আঘাত হানা হয়নি। এক্সে এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, মার্কিন বাহিনী ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ এবং ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ কার্যকর করছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র সোমবার ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান শুরু করছে। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এলো।
হরমুজে ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা : সংঘাতের বাইরে থাকা দেশগুলোর যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে, সেগুলোর নিরাপদে সরে যেতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ উদ্যোগের নাম দিয়েছেন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সময় অনুযায়ী সোমবার সকালে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এতে যোগ দেবে ১৫ হাজার সেনা। থাকবে ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার ও শতাধিক যুদ্ধবিমান।
এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। এর সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে চাইলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ জলপথের নিরাপত্তার দায়িত্ব ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনীর হাতে ন্যস্ত। তাই যে কোনো পরিস্থিতিতে নিরাপদ যাতায়াত ও নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগ (ইরানের) সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই নিতে হবে।’ সতর্ক করে বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, ‘আমরা সতর্ক করছি, যে কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে আসার কিংবা প্রবেশের চেষ্টা করলে-তাদের ওপর হামলা করা হবে।’
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) তেলের ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। তবে এই হামলায় কেউ আহত হয়নি। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলেশন ২৮১৭-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার গুরুত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা বা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ বন্ধ না করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।