,BISSHOSONGBAD, Bangla, বিশ্ব সংবাদ, 24 news
আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখা যাবে ইউটিউবে ঈদের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত পবিত্র ঈদুল আজহা আজ ওমানে একসঙ্গে বাংলাদেশি ৪ ভাইয়ের লাশ উদ্ধার পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকাশে বিল পরিশোধে কমছে সুবিধা, বাড়ছে গ্রাহক অসন্তুষ্টি যাদের কুরবানি কবুল হবে না হরমুজে মার্কিন জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিএনপির ৭২ শতাংশ ও জামায়াতের ৫৬ শতাংশ নারী এমপি কোটিপতি ‘যখন তখন আন্দোলনে নেমে পড়লে তা সফল হয় না’ শিশির মনির ও ফুয়াদকে অতিথি করায় রাবি শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন অর্থনৈতিক মহাসংকটে বিদ্যুৎ জ্বালানি বিভাগ তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাব আয় কমছে, বাড়ছে ব্যয় অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর সিন্ডিকেটের মূল হোতা মাসুদ, তিনি বললেন, ‘ফালতু কথা মালয়েশিয়ায় আটক করা হচ্ছে ইসরাইলি পাসপোর্টধারীদের সুনামগঞ্জের ১০ জনের ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন সাগরে বিলীন শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে তেল মজুতে দুই ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ নিহত ৫ ঈদের দিনে একের পর এক দুর্ঘটনা: ট্রেন, লঞ্চ ও বাস দুর্ঘটনায় উদ্বেগ ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ গ্রেফতার

রক্তের দামে কেনা ভাষার অধিকার

রিপোর্টারের নাম: MD. S. M. RIAJ
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Feb 20, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: রক্তের দামে কেনা ভাষার অধিকার

‘মাগো, ওরা বলে/সবার কথা কেড়ে নেবে।/তোমার কোলে শুয়ে/গল্প শুনতে দেবে না।/বলো, মা,/তাই কি হয়?’ মায়ের ভাষার কথা বলার আকুতিকে কবি তার কবিতায় এভাবেই মূর্ত করেছেন। সত্যিই তো। বাংলার দামাল ছেলের মুখ থেকে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার কেড়ে নেবে, সে সাধ্য কার? তাইতো তারা বুকের তাজা রক্তের দামে কিনে নেয় মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে তরুণদের রক্তে লাল হয় ঢাকার রাজপথ। আজ তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করার দিন। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষাশহীদের সেই আত্মত্যাগই আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কবির ভাষায়-বিপ্লব-সংগ্রামে পুনরায় তাদের স্মরি,/রক্তের বিনিময়ে জাতির গৌরব এনে দিল যারা।/শত্রুরা হারিয়ে গেছে প্রতিবাদ ভয় করি,/একুশের বীরেরা, জ্বেলেছে ভাষার ধ্রুবতারা।/‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা আরও অনেকে শহীদ হন। মাতৃভাষা রক্ষার সেই আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো। অন্য বছরের মতো এবারও রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

২১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ভাষাশহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশন দুপুর ১২টায় শদীদের রুহের মাফফিরাত কামনায় কুরআন খতম ও দোয়া আয়োজন করেছে। এছাড়া দেশের সব মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মহান একুশের চেতনাকে ধারণ করে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ জাগ্রত হোক, দেশ ও জাতির কল্যাণ নিশ্চিত হোক-মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ কামনা করি। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এ চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম পার হয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাঙালি জাতির কাছে দিনটি একদিকে গভীর শোক ও বেদনার, অন্যদিকে মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল ঐতিহাসিক। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাজধানীজুড়ে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

একুশে পদক : প্রতিবছর একুশে পদক দেওয়া হয় একুশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে। তাদের ১৮ ক্যারেটের সোনা দিয়ে তৈরি পদক, একটি রেপ্লিকা, সম্মাননাপত্র এবং নগদ চার লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। একুশে পদক রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদক। প্রতিবছর ২০ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত ব্যক্তিদের এ পদকে ভূষিত করেন। বাংলা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা ও সাহিত্য চর্চা, শিল্পকলা, শিক্ষা, গবেষণা, সাংবাদিকতা এবং সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সর্বশেষ গত বছরও ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছিল। তবে চলতি বছর একুশে পদকের জন্য নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবদন্তি গায়ক, গিটারিস্ট ও সংগীত পরিচালক আইয়ুব বাচ্চু এবং চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও প্রযোজক ববিতা এই নয় ব্যক্তি এক প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকারের দায়িত্বগ্রহণ এবং রমজান মাসের কারণে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলাসহ সব কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছর এ পুরস্কার প্রদানে কোনো তারিখ কিংবা অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে পুরস্কার প্রদান ছাড়াই এবার ভাষাশহীদ ও একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম যুগান্তরকে বলেন, এ বছর নির্বাচনসহ বিভিন্ন ঝামেলার কারণে একুশে পদক দেওয়া হয়নি। তবে ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক প্রদানের কথা রয়েছে।

ডিএমপির নির্দেশনা : কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নগরবাসীকে নির্ধারিত রাস্তা অনুসরণ করে প্রবেশ ও বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নগরবাসীকে পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যেতে হবে। এর বাইরে অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে না। আর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রমনা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর বা চানখাঁরপুল দিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই রুট সবাইকে অনুসরণ করতে হবে।

নিরাপত্তা শঙ্কা নেই : অমর একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান ঘিরে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, তবুও পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সোয়াত, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিসহ সাইবার মনিটরিংও থাকবে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কোনো ধরনের ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য না আনার অনুরোধ জানায় ডিএমপি।

সাতটি রাস্তায় ‘ডাইভারশন’ : শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে সাতটি রাস্তায় ‘ডাইভারশন’ থাকবে বলে জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, সাতটি জায়গায় ডাইভারশন থাকবে। এগুলো হলো-শাহবাগ ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, চানখাঁরপুল ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং ও বকশীবাজার ক্রসিং।

শহীদ মিনার এলাকা ৬৪টি ক্যামেরায় নজরদারি : দুপুরের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করে র‌্যাব। র‌্যাবের মহাপরিচালক কেএম শহিদুর রহমান বলেন, কয়েকটি স্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। পুরো শহীদ মিনার এলাকা ৬৪টি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় রাখা হবে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন র?্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, দাবি আদায়ের নামে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম বা তাদের জিম্মি করে কোনো ধরনের কার্যক্রম তারা হতে দেবেন না। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা যাতে না আসে সেজন্য তারা সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।

কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..