শনিবার (১৯ জুলাই) সামরিক পডকাস্টে বক্তব্য রাখার সময় ইউক্রেনে জার্মানির সামরিক সহায়তার তত্ত্বাবধানকারী মেজর জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান ফ্রয়েডিং কিয়েভকে এই পরামর্শ দেন।
ফ্রয়েডিং বলেন, 'রাশিয়ান স্ট্রাইক ফোর্স মোতায়েনের আগে আপনি তাদের আক্রমণাত্মক সম্ভাবনাকেও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারেন। দূরপাল্লার বিমানযুদ্ধের সম্পদ ব্যবহার করে বিমান এবং বিমানক্ষেত্রগুলোতে আক্রমণ করার আগে সেগুলো ব্যবহার করুন। এছাড়াও অস্ত্র উৎপাদন সাইটগুলোকে লক্ষ্য করুন।'
ফ্রয়েডিং দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক সিস্টেমের উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। আমাদের অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করতে হবে যে, আমাদের অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট কিনা এবং আমরা কোথায় আরও চাপ প্রয়োগ করতে পারি - বিশেষ করে রাশিয়ান উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত করার জন্য।
জেনারেল রাশিয়ান ড্রোনের তরঙ্গের বিরুদ্ধে মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্রের সীমাবদ্ধতার দিকেও ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি দামের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করাটা অপচয়। আমাদের ২০০০ থেকে ৪০০০ ইউরো মূল্যের পাল্টা ব্যবস্থা প্রয়োজন।
গত বছর প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালানোর জন্য আমেরিকান দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়। যদিও তখন পরিসর এবং লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ ছিল। সেই সময়কার মিডিয়া রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, কিয়েভকে রাশিয়ার প্রধান বিমানঘাঁটিতে আঘাত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে জেনারেল ফ্রয়েডিং এই মাসের শুরুতে নিশ্চিত করেছেন, জুলাইয়ের শেষের আগে বার্লিনের অর্থায়নে ইউক্রেনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম প্যাকেজ পাবে। তবে উত্তেজনা বৃদ্ধির উদ্বেগের কারণে জার্মানি 'টরাস' ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে অনিচ্ছুক।
এই মাসের শুরুতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, জার্মানি আবারও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। মস্কো জার্মান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে 'সংঘাত সমর্থন' এবং 'রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপের আক্রমণাত্মক সংহতি অনুসরণ' করার অভিযোগও করেছে।
বিশ্ব সংবাদ_২৪
এ জাতীয় আরো খবর..