,BISSHOSONGBAD, Bangla, বিশ্ব সংবাদ, 24 news
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাঞ্চল্যকর নয়ন হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুর মোহসিন পাঁচজনকে চার দিন করে এবং দুই নারী আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, নয়নের দ্বিতীয় স্ত্রী ও হত্যার পরিকল্পনাকারী সাবরিনা, পরকীয়া প্রেমিক রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল, সাবরিনা ও রাসেলের সহযোগী জুয়েল, চয়নম রোমান ওরফে মানিকের চার দিন করে এবং সাবরিনার আগের সংসারের দুই মেয়ে সুমাইয়া ও সানজিদা সুজার দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিয়ারচরে একটি মার্কেটের পেছনের নির্জন জায়গা থেকে মো. নয়ন (৪৯) নামে এক ব্যক্তির দুই পা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবরিনা (৪০), তার দুই মেয়ে সুমাইয়া (২০), সানজিদা (১৮) ও পরকীয়া প্রেমিক রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল (৪৫), সহযোগী চয়ন (৪০), জুয়েল (২৮) নোমান ওরফে মানিককে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপর আসামি সামির পলাতক রয়েছেন।
নিহত নয়ন ফতুল্লার নন্দলালপুর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। পেশায় মাদককারবারি নয়ন একটি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আড়াই বছর কারাভোগের পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এসব তথ্য জানান।
এদিকে নয়নের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবরিনার দেখানো মতে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পিলকুনি সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পেছনে ব্যাগ থেকে বিচ্ছিন্ন পা দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নয়ন মিয়া জেলে যাওয়ার পর সাবরিনার সঙ্গে স্থানীয় যুবক রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। জমিনে বের হয়ে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সাবরিনাকে জিজ্ঞাসা করেন নয়ন। এতে তাদের দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্ট হয়। এর জের ধরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফতুল্লার পশ্চিম দেলপাড়া অকিল উদ্দিনের বাড়ির পঞ্চমতলায় দ্বিতীয় স্ত্রী সাবরিনার ভাড়াবাসায় নয়নকে হত্যা করে। এ সময় পরকীয়া প্রেমিক রাসেল, সাবরিনার দুই মেয়ে সানজিদা সাজু ও সুমাইয়া উপস্থিত ছিলেন।
পরদিন ৬ অক্টোবর পরস্পরের সহযোগিতায় চয়ন, জুয়েল, নোমান, সুমাইয়া, সানজিদা, সামিরসহ দুই-তিনজন মিলে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে হেক্সোব্লেড দিয়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন করে হাত রশি দিয়ে বেঁধে পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচিয়ে ড্রামে ভরে শিয়াচর একটি মার্কেটের পেছনে নির্জন জায়গায় ফেলে দেয়। বিচ্ছিন্ন পা দুটি পিলকুনি প্রাইমারি স্কুলের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসনিম আক্তার, তারেক আল মেহেদী, হাসিনুর রহমান, ফতুল্লা থানার ওসি আনোয়ার হোসেনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।